Blog

ফ্রড চেকার কি যথেষ্ট? ফেক অর্ডার আটকাতে কুরিয়ার ফ্রড চেক আর কনফার্মেশন কল

· ৩ মিনিটে পড়া

নতুন অর্ডার এলে অনেক পেজ এখন আগে কাস্টমারের নম্বরটা একটা ফ্রড চেকারে দেয়। কয়েক সেকেন্ডে দেখা যায়, এই নম্বরে আগে কয়টা পার্সেল ডেলিভারি হয়েছে আর কয়টা রিটার্ন এসেছে। কাজটা দরকারি। কিন্তু শুধু এটুকু দিয়ে সব ফেক অর্ডার ধরা যায় না।

এই লেখায় দেখব, ফ্রড চেকার কী ধরে, কী ধরে না, আর কোথায় কনফার্মেশন কল লাগে।

ফ্রড চেকার কী করে

কুরিয়ার ফ্রড চেকার একটা ফোন নম্বরের পুরোনো ডেলিভারি ইতিহাস দেখায়। Steadfast, Pathao, RedX-এর মতো কুরিয়ারে ওই নম্বরে কয়টা পার্সেল গেছে, কয়টা কাস্টমার নিয়েছে, কয়টা ফেরত এসেছে। কোনো নম্বরের রিটার্ন বেশি হলে সেটা একটা সতর্ক সংকেত।

যে নম্বর আগে বারবার পার্সেল ফেরত দিয়েছে, সেই নম্বরে আবার পার্সেল পাঠানোর আগে ভাবা উচিত। এখানে ফ্রড চেকার সত্যিই কাজে আসে।

যেখানে ফ্রড চেকার কিছু বলতে পারে না

নতুন নম্বর। যে নম্বরে আগে কখনো পার্সেল যায়নি, তার কোনো ইতিহাস নেই। ফ্রড চেকার সেখানে "পরিষ্কার" দেখায়। অথচ প্র্যাংক অর্ডার প্রায়ই নতুন বা অচেনা নম্বর থেকেই আসে।

এই অর্ডারটা আসল কি না। ইতিহাস ভালো মানেই এই অর্ডারটা কাস্টমার নিজে দিয়েছেন, তা নয়। কেউ অন্যের নম্বর দিয়েও অর্ডার করতে পারে।

ডুপ্লিকেট অর্ডার। একই কাস্টমার ভুল করে দুইবার অর্ডার দিলে দুটোই "ভালো কাস্টমার" দেখাবে। দুটো পার্সেল যাবে, একটা ফেরত আসবে।

মন বদলানো। আসল কাস্টমারও অর্ডারের পর মত বদলান। ফ্রড চেকার শুধু অতীত দেখে; আজকের মত দেখে না।

ভুল ঠিকানা। নম্বর ঠিক, কাস্টমারও আসল, কিন্তু ঠিকানায় থানা নেই বা রোড নম্বর ভুল। পার্সেল ঘুরে ফেরত আসে। ফ্রড চেকার ঠিকানা যাচাই করে না।

কনফার্মেশন কল কোথায় কাজ করে

কল ঠিক সেই জায়গাগুলো ধরে, যেখানে ফ্রড চেকার চুপ থাকে।

  • নতুন নম্বর: কাস্টমার ফোন ধরে নিজের মুখে অর্ডার কনফার্ম করলে বোঝা যায় অর্ডারটা আসল।
  • অন্যের নম্বর: যিনি অর্ডারই দেননি, তিনি কলে সেটা বলে দেন।
  • ডুপ্লিকেট: একই অর্ডার দুইবার পড়ে শোনালে কাস্টমার নিজেই বলেন, "একটাই রাখেন।"
  • মন বদলানো: পার্সেল বের হওয়ার আগেই "না" শুনলে কুরিয়ার চার্জ বাঁচে।
  • ঠিকানা: ঠিকানা পড়ে শোনালে কাস্টমার থানা আর জেলা ঠিক করে দেন।

দুটো একসাথে: একটা সহজ নিয়ম

ফ্রড চেকার আর কল একে অপরের বদলি নয়। দুটো মিলিয়ে কাজ করুন:

  1. অর্ডার এলে নম্বরটা ফ্রড চেকারে দেখুন। রিটার্ন বেশি হলে অর্ডারটা হোল্ডে রাখুন। দরকার হলে অগ্রিম ডেলিভারি চার্জ চান।
  2. বাকি সব অর্ডারে কনফার্মেশন কল দিন, নতুন নম্বর হোক বা পুরোনো।
  3. কনফার্ম হলে শিপ করুন। ফোন না ধরলে, "না" বললে বা ঠিকানা না মিললে অর্ডার হোল্ডে রাখুন। একজন মানুষ দেখে সিদ্ধান্ত নিন।
  4. যে নম্বর কলে "অর্ডার দিইনি" বলে, সেটা নিজের তালিকায় টুকে রাখুন। এই তালিকা সময়ের সাথে আপনার নিজের ফ্রড চেকার হয়ে ওঠে।

প্রতিটা অর্ডারে কল দেওয়ার সময় কোথায়?

সমস্যা এখানেই। দিনে কয়েক ডজন অর্ডার হলে সবাইকে ফোন করা একজন স্টাফের সারাদিনের কাজ। ব্যস্ত দিনে কলই আগে বাদ পড়ে।

স্বরবর্ণ এই কাজটা করে। অর্ডার আসামাত্র AI এজেন্ট দেশি নম্বর থেকে কাস্টমারকে ফোন করে। বাংলায় অর্ডার আর টাকার অঙ্ক পড়ে শোনায়, কনফার্ম বা ক্যানসেল নেয়, ঠিকানা মিলিয়ে থানা-জেলা আলাদা করে লিখে রাখে। প্রতিটা কলের এক লাইনের নোট আর পুরো রেকর্ডিং আপনি ড্যাশবোর্ডে পান। এজেন্ট নিজে থেকে কোনো অর্ডার বাতিল করে না; সিদ্ধান্ত আপনার।

দেখুন ফেক অর্ডার আটকানো কীভাবে কাজ করে, অথবা সাইন আপ করে ফ্রি মিনিট দিয়ে নিজের অর্ডারে চালিয়ে দেখুন।

← সব লেখা